বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, পৃথিবীতে বর্তমানে প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন লোক বিষণ্ণতা (Depression) ব্যাধিতে ভুগছে, যা তাদেরকে অক্ষমতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বাংলাদেশেও দিন দিন বিষণ্ণতায় ভোগা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। দুঃখজনক হলো, বিষণ্ণতা যে একটি রোগ সেটা অনেকে বোঝে না বা বুঝলেও তা স্বীকার করতে চায় না।

বিষণ্ণতার লক্ষণ ও উপসর্গ:

যারা Depression-এ ভুগে তাদের মধ্যে কিছু সাধারণ লক্ষণ দেখা দেয়। যেমন:

⁕ তীব্র দুঃখ বোধ হওয়া।

⁕ আশাহীনতা বা ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিরাশ থাকা।

⁕ সবকিছু থেকে নিজেকে গুটিয়ে আনা।

⁕ সবকিছুতে বিরক্ত বোধ হওয়া।

⁕ অস্থিরতা বা মনোযোগ দিতে অসুবিধা।

⁕ দৈনন্দিন কাজকর্ম সম্পাদনে অসুবিধা।

⁕ ক্ষুধা বা ঘুমের নিয়মে পরিবর্তন।

⁕ নিজেকে গুরুত্বহীন ভাবা বা অপরাধবোধ কাজ করা।

⁕ নিজের ক্ষতি বা আত্মহত্যার চিন্তা।

(Note: উপরে লক্ষণগুলো দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে চলতে থাকে তাহলে ডিপ্রেশনে আক্রান্ত বলে ধরা হয়।)

যারা Depression-এ ভোগে তাদের মধ্যে কিছু নেতিবাচক চিন্তা বাসা বাঁধে। তা হতে পারে-

⁕ নিজের সম্পর্কে নেতিবাচক চিন্তা। (যেমন: আমাকে দিয়ে কিছু হবে না। আমি একটা অপদার্থ।)

⁕ অন্যকে নিয়ে নেতিবাচক চিন্তা (যেমন: কেউ আমাকে বোঝে না, সবাই খারাপ, সবাই তাদের স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত থাকে)।

⁕ পৃথিবী সম্পর্কে নেতিবাচক চিন্তা (যেমন: পৃথিবী বসবাসের যোগ্য একটি জায়গা না। পৃথিবীতে যতদিন থাকবো ততদিন কষ্ট করে থাকতে হবে)।

বিষণ্ণতার কারণ কী ?

মানসিক নির্যাতন, স্কুলে সহিংসতা, ঘনিষ্ঠ কারো মৃত্যু অথবা পারিবারিক সহিংসতা বা পারিবারিক ভাঙ্গনের মতো কিছু সমস্যার প্রতিক্রিয়া হিসাবে বিষণ্ণতা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক চাপে থাকার পর কেউ বিষণ্ণতায় আক্রান্ত হতে পারে। এটি পরিবারেও চলতে পারে। কখনও কখনও আমরা জানি না কেন এটি ঘটে।