আজকের সমাজে একটি নীরব কিন্তু ভয়াবহ পারিবারিক ও মানসিক সংকটের নাম পরকীয়া অনেক সময় মানুষ সচেতনভাবে বা কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে এতে জড়ায়। আবার অনেকেই একাকীত্ব, পারিবারিক জীবনে সামান্য দূরত্ব, কর্মক্ষেত্রের ঘনিষ্ঠতা বা কেবলই আবেগের বশে মানুষ “অজান্তেই” এমন একটি সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে।

​শুরুটা সাময়িক ভালো লাগা বা মানসিক সাপোর্ট দিয়ে হলেও, একটা সময় পর এই সম্পর্কটি একটি ফাঁদে পরিণত হয়। আর তখনই শুরু হয় আসল জটিলতা—যখন মানুষ মন থেকে এই চক্র থেকে বের হতে চায়, কিন্তু বের হতে পারে না।

কেন এই চক্র থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে ?

আবেগ ও ব্ল্যাকমেইল: অনেক সময় অপর পক্ষ সম্পর্কটি ভাঙতে রাজি হয় না। আবেগীয় চাপ, কান্নাকাটি, কিংবা সমাজ ও পরিবারের কাছে সব প্রকাশ করে দেওয়ার ভয় বা ব্ল্যাকমেইলের কারণে মানুষ চাইলেও পিছটান দিতে পারে না।

★অভ্যাসের দাসত্ব: প্রতিদিনের কথাবার্তা, মেসেজ বা দেখা করার যে অভ্যাস তৈরি হয়, তা হুট করে বন্ধ করলে এক ধরণের তীব্র শূন্যতা তৈরি হয়। এই শূন্যতা সহ্য করতে না পেরে মানুষ আবার ফিরে যায়।

★​দ্বিমুখী জীবনযাপনের টানাপোড়েন: একদিকে বৈধ সঙ্গীর (স্বামী বা স্ত্রী) প্রতি অপরাধবোধ, অন্যদিকে নতুন সম্পর্কের প্রতি টান—এই দুইয়ের মাঝে পড়ে মানুষ এক গোলকধাঁধায় হারিয়ে যায়।

মুক্তির উপায় কি?

​যদি আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ এই পরিস্থিতিতে আটকে থাকেন, তবে এই বৃত্ত ভাঙতে কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিতেই হবে।যেমন-

★​চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা: “ধীরে ধীরে দূরত্ব বাড়াবো”—এই চিন্তা কাজ করবে না। একবারে, কঠোরভাবে সব ধরণের যোগাযোগ (ফোন, মেসেজ, সোশ্যাল মিডিয়া) ব্লক করতে হবে। কোনো অজুহাতেই আর কথা বলা যাবে না।

★​সত্যকে স্বীকার করা: নিজের ভেতরের অপরাধবোধকে মেনে নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, আপনি নিজের পরিবার ও মানসিক শান্তি ফেরত চান। সাময়িক কষ্ট হলেও দীর্ঘমেয়াদী শান্তির জন্য এটা জরুরি।

★​সঙ্গীকে সময় দেওয়া: নিজের মূল সম্পর্কে (স্বামী/স্ত্রী) আবার মনোযোগ দিন। যে শূন্যতার কারণে পরকীয়া এসেছিল, সেটি নিজের সঙ্গীর সাথে আলোচনার মাধ্যমে দূর করার চেষ্টা করুন।

​★​পেশাদার সাহায্য (Therapy): যদি মানসিক চাপ সহ্য ক্ষমতার বাইরে চলে যায়, তবে একজন অভিজ্ঞ সাইকোলজিস্ট বা কাউন্সেলরের সাহায্য নিন। তারা কোনো বিচার না করে (Non-judgmental) আপনাকে এই ট্রমা থেকে বের হতে বৈজ্ঞানিক উপায় বাতলে দেবেন।

ভুল পথে হাঁটার চেয়ে সেই পথ থেকে ফিরে আসার কণ্টকাকীর্ণ পথটি অনেক শ্রেয়। সাময়িক কিছু সামাজিক বা মানসিক ঝড় ঝাপটা গেলেও, জীবনকে আবার নতুন করে সুন্দরভাবে সাজানো অবশ্যই সম্ভব। অন্ধকার থেকে আলোতে ফেরার প্রথম ধাপটি আপনাকেই নিতে হবে।